২৭/১০/২০২৬

ডায়াগনস্টিক সেন্টার সফটওয়্যার: ল্যাব অর্ডার, রিপোর্ট আর বিল এক জায়গায়

একজন রোগী পাঁচটা টেস্টের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঢুকলেন। রিসেপশন খাতায় নাম, বয়স, ফোন নম্বর লিখল। ল্যাবে গেল একটা স্লিপ। হিসাব বিভাগ লিখল মানি রসিদ। রিপোর্ট তৈরি হলে কেউ ওয়ার্ডে টাইপ করে প্রিন্ট দিলেন, একটা কপি ফাইলে রাখলেন। পরের মাসে একই রোগী এলেন, আর পুরো কাজ আবার শুরু, কারণ আগের ভিজিট দ্রুত কেউ খুঁজে পায় না।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার সফটওয়্যারের কাজ ঠিক এই চক্রটা ভাঙা। এই লেখায় থাকছে বাংলাদেশের সেন্টার বা ক্লিনিকের জন্য এমন সফটওয়্যারে কী লাগে, সাইন আপের আগে কী জিজ্ঞেস করবেন, আর সৈয়দপুর ডায়াবেটিক সমিতিতে আমরা কী দেখেছি। সেপ্টেম্বর থেকে তারা প্রত্যয়ে প্রায় এক হাজার ল্যাব অর্ডার করেছে।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার সফটওয়্যারে যা থাকা দরকার

রোগীকে একবারই নিবন্ধন। নাম, বয়স, লিঙ্গ, ফোন, ঠিকানা আর একটা রোগী আইডি। পরের বার রিসেপশন ফোন নম্বর বা আইডি দিয়ে খুঁজলেই আগের সব টেস্টসহ রেকর্ড চলে আসবে।

প্রেসক্রিপশন থেকে ল্যাব অর্ডার। রিসেপশন নির্দিষ্ট দামের তালিকা থেকে টেস্ট বাছবে। সফটওয়্যার যোগ করে ছাড় বসাবে।

টাকা নেওয়া আর বকেয়ার হিসাব। অনেক রোগী এখন কিছু দেন, বাকিটা রিপোর্ট নেওয়ার সময়। কার কত বাকি, রোগী আর দিন ধরে দেখাতে হবে।

ফল লেখা আর রিপোর্ট প্রিন্ট। টেকনিশিয়ান প্রতিটি টেস্টের ঘরে মান বসাবেন, স্বাভাবিক সীমা আগেই সেট করা থাকবে, আর সেন্টারের প্যাড ও কনসালট্যান্টের নামসহ পরিষ্কার রিপোর্ট প্রিন্ট হবে।

দিনের হিসাব। আজ মোট রোগী, টেস্ট, আদায় আর বকেয়া, যাতে মালিককে হাতে লেখা সারাংশের জন্য বসে থাকতে না হয়।

পূর্ণ হাসপাতাল সিস্টেমে ভর্তি, বেড, ওয়ার্ড, ফার্মেসি আর ডাক্তারদের শিডিউলও থাকে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক হলে আগে উপরের পাঁচটা দরকার। প্রত্যয় এখন ল্যাব আর ক্লিনিকের কাজ সামলায়, হাসপাতালের অংশগুলো ধাপে ধাপে তৈরি হচ্ছে।

বিক্রেতাকে যা জিজ্ঞেস করবেন

রিসেপশন কি বাংলায় চালাতে পারবে? পুরো ভবনে সবচেয়ে ব্যস্ত চেয়ার ওটাই।

টেস্টের নাম আর স্বাভাবিক সীমা কি সেট করে দেবেন? কয়েকশো টেস্ট আর তার সীমা তোলা আসল কাজ। কে করবে, জেনে নিন।

পুরনো রোগীর তালিকা রাখা যাবে? বছরের পর বছর এক্সেলে রেকর্ড থাকলে ইমপোর্ট করা যায় কি না জিজ্ঞেস করুন, যাতে পুরনো রোগী প্রথম ভিজিটেই পাওয়া যায়।

রোগীর তথ্য কে দেখতে পারে? রোগীর তথ্য সংবেদনশীল। লগইন আর ভূমিকা কীভাবে কাজ করে জিজ্ঞেস করুন, যাতে শুধু ডাক্তারের দেখার জিনিস রিসেপশনিস্ট না দেখেন।

দাম কীভাবে? মাসিক না বার্ষিক, শাখা প্রতি না ব্যবহারকারী প্রতি? টাকার অঙ্কটা জেনে নিন।

সৈয়দপুর ডায়াবেটিক সমিতি: ছয় সপ্তাহে ৯৯৩টি ল্যাব অর্ডার

সৈয়দপুর ডায়াবেটিক সমিতির ক্লিনিক পার্বতীপুর রোডে। তারা ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে প্রত্যয় চালাচ্ছে। ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত:

সবচেয়ে কাজে লেগেছে পুরনো রোগীদের ইমপোর্ট। ডায়াবেটিস ক্লিনিকে একই মানুষ কয়েক সপ্তাহ পরপর সুগার আর HbA1c পরীক্ষা করাতে আসেন। প্রতিবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হলে রিসেপশন কয়েক দিনের মধ্যেই খাতায় ফিরে যেত। প্রথম দিন থেকে তালিকা থাকায় বেশিরভাগ ভিজিট শুরু হয় খোঁজা দিয়ে, ফর্ম পূরণ দিয়ে নয়।

ক্লিনিকের সঙ্গে কাজ করে সফটওয়্যারও বদলেছে। অক্টোবরে আমরা ল্যাব অর্ডারের সঙ্গে টেস্ট যুক্ত হওয়ার ধরন বদলেছি, যাতে এক অর্ডারে কয়েকটা টেস্ট থাকে আর প্রতিটার রিপোর্ট আলাদা করে দেওয়া যায়। এটা এসেছে সরাসরি ক্লিনিকের ল্যাবের কাজের ধরন থেকে।

প্রত্যয়ে ২৪,১৩১টি ওষুধ আর ১,৬২৫টি জেনেরিক নামের তালিকাও আছে। ডাক্তাররা সিস্টেমে প্রেসক্রিপশন লেখার সময় এটা ব্যবহার করেন।

কীভাবে বদলাবেন

আগে টেস্ট আর দাম সেট করুন। আপনার সব টেস্ট, দাম আর স্বাভাবিক সীমার তালিকা করুন। চালুর আগে ল্যাব ইনচার্জকে দিয়ে মিলিয়ে নিন।

রোগীর তালিকা থাকলে ইমপোর্ট করুন। নাম, ফোন আর বয়সের সাধারণ তালিকাও রিসেপশনের অনেক টাইপিং বাঁচায়।

রিসেপশন আর বিল দিয়ে শুরু। দরকার হলে এক সপ্তাহ ল্যাব রিপোর্ট পুরনো নিয়মে চালান। রিসেপশন স্বচ্ছন্দ হলে রিপোর্টও সরান।

প্রত্যেককে আলাদা লগইন দিন। রিসেপশন, ল্যাব, হিসাব আর ডাক্তার, প্রত্যেকের নিজের অ্যাকাউন্ট আর ভূমিকা।

প্রথম মাসে প্রতি সন্ধ্যায় দিনের সারাংশ দেখুন। ক্যাশের সঙ্গে মেলান। মিলে গেলে ভরসা করতে পারেন।

সাধারণ দুশ্চিন্তা

“ডাক্তারদের পছন্দের একটা রিপোর্ট ফরম্যাট আছে।” একটা প্রিন্ট করা নমুনা নিয়ে আসুন। রিপোর্টের লেআউট আমরা প্রথমেই সাজাই।

“টেকনিশিয়ানরা ধীরে টাইপ করেন।” ফল লেখা হয় নির্দিষ্ট ঘরে, খোলা লেখা হিসেবে নয়, তাই ওয়ার্ডের চেয়ে দ্রুত।

“ইন্টারনেট চলে গেলে?” প্রত্যয় অনলাইনে চলে। ব্যাকআপ হিসেবে মোবাইল ডেটা রাখুন, আর জরুরি অবস্থার জন্য রিসেপশনে একটা স্লিপ বই।

পরের ধাপ

আপনি যদি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিক চালান আর নিজের টেস্ট তালিকা দিয়ে প্রত্যয় দেখতে চান, যোগাযোগ করুন অথবা প্রত্যয়ের পাতা দেখুন। আপনার এখনকার দামের তালিকা পাঠান, সেটা দিয়েই ডেমো সাজিয়ে দেব।